❓ Question
🏛️ hanefiপ্রশ্ন: জাকাত কাদেরকে দেওয়া যায়?
📗 Ruling
প্রিয় ভাই, আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। জাকাত ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি, যা সম্পদের পবিত্রতা এবং সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী জাকাত কাদেরকে দেওয়া যাবে, তা সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "জাকাত তো কেবল ফকীর, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য।" হানাফি ফিকহের মৌলিক গ্রন্থ 'আল-হিদায়া' এবং ইবনে আবিদিনের 'রাদ্দুল মুহতার'-এ জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: ১. ফকীর ও মিসকিন: যাদের কাছে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মতো নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। ২. আমিল: জাকাত সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী। ৩. ঋণগ্রস্ত: যাদের ঋণ তাদের মৌলিক প্রয়োজন ও সম্পদ থেকে বেশি। ৪. ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে): হানাফি আলেমদের অধিকাংশের মতে, এটি মূলত ইলম অর্জনকারী এবং মুজাহিদদের জন্য প্রযোজ্য। ৫. ইবনুস সাবিল (মুসাফির): নিজ দেশ থেকে দূরে থাকা এমন ব্যক্তি যার কাছে প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই। হানাফি মাজহাবে যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না: উসুল (মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি) ও ফুরু (সন্তান, নাতি-নাতনি), ধনী ব্যক্তি, অমুসলিম, নবী করিম (সা.)-এর বংশধর (বনু হাশিম) এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারবে না (কারণ তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব একে অপরের ওপর বর্তায়)। ফিকহি মতভেদ: অন্যান্য মাজহাবের সাথে একটি প্রধান পার্থক্য হলো 'মুয়াল্লাফাতুল কুলুব' (যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন) খাতটি। শাফেয়ী মাজহাব অনুযায়ী এটি আজও কার্যকর, কিন্তু হানাফি ফিকহের অন্যতম প্রধান গ্রন্থ 'আল-মাবসুত'-এর প্রভাবশালী মত অনুযায়ী, ইসলামের শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে এই খাতের বিধান রহিত হয়ে গেছে। তবে কিছু হানাফি আলেম মনে করেন, প্রয়োজনে এটি এখনো কার্যকর হতে পারে। মনে রাখতে হবে, জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হলো নিজের নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী (যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আপনার ওপর নেই) তাদের দেওয়া। কারণ এতে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও পাওয়া যায়। আল্লাহ আপনার দান কবুল করুন এবং আপনার সম্পদে বরকত দান করুন।